
মো. মামুন চৌধুরী॥ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারিভাবে নরমাল ডেলিভারি সেবা চালু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিঠুন বিশ্বাসের উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে এ সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সফলভাবে ১৩টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এতে উপজেলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গর্ভবতী নারীরা বিনামূল্যে নিরাপদ প্রসবসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিঠুন বিশ্বাস জানান, দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত সেবিকাদের মাধ্যমে অত্যন্ত যতœসহকারে নরমাল ডেলিভারি করানো হচ্ছে। এ সেবা গ্রহণের জন্য রোগীদের কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি এ সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্নভাবে প্রচারণাও চালানো হয়েছে। তিনি গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারি সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সেবা গ্রহণকারী ও তাদের স্বজনরা জানান, শায়েস্তাগঞ্জে আগে সরকারিভাবে নরমাল ডেলিভারির ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে হতো। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে এ সেবা চালু হওয়ায় তারা অনেক উপকৃত হচ্ছেন। তারা এ উদ্যোগের জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিঠুন বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ১২ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তবে স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়ায় বর্তমানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় দেড় লাখ মানুষের এ উপজেলায় বর্তমানে সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় সাড়ে ৩৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ব্রাহ্মণডুরা, নূরপুর এবং শায়েস্তাগঞ্জ—এই তিনটি ইউনিয়ন রয়েছে। জেলার অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো মানুষের যাতায়াত হয় এখানে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদাও তুলনামূলক অনেক বেশি।
সীমিত অবকাঠামো এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বর্তমানে নরমাল ডেলিভারি সেবা চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্থায়ী ভবনের অভাব ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে পরিকল্পিত ৫০ শয্যার স্থায়ী ভবন নির্মাণ, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হোক। এতে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও আরও উন্নত ও মানসম্মত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা লাভ করতে পারবেন।







One Comment