হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেল অস্ট্রেলিয়া

হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক ॥ এক ম্যাচ হাতে রেখে আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করেছিলো বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়া সিরিজে টাইগারদের আরও বড় সুযোগ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করার। তবে শ্বাসরুদ্ধকর তৃতীয় ওয়ানডেতে তীরে এসে তরী ডুবিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তরা। ২৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শেষ দিকে শরিফুলের বোলিং তোপে অজিদের দরকার হয় ১ ওভারে ৪ চার রান। তবে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে আর আটকাতে পারেনি টাইগাররা। তাতে ১ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পায় অজিরা।

শুরুটা ছিল না খুব স্বস্তির। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৫৩ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত ২৪ ও তানজিদ হাসান তামিম ১৯ করলেও সৌম্য সরকার ফেরেন মাত্র ২ রানে। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট পড়লে চাপ বেড়ে যায়।

ঠিক সেই মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনের অসাধারণ জুটিতে দল একশ ছাড়িয়ে যায়। লিটন দলীয় ১৫৩ রানে ব্যক্তিগত ৪৮ করে রিটায়ার্ড হার্ট হন। কিন্তু তিনি মাঠ ছাড়ার পরও হৃদয় লড়াই চালিয়ে যান। ৮৩ রান করে (৮৮ বলে ৮ চার) বেন ডারশুইসের বলে আলেক্স ক্যারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

হৃদয় ফেরার পর শেখ মেহেদী মাত্র ৩ রান করে আউট হলে আবার মাঠে ফেরেন লিটন। এবার তিনি মিরপুরের অভিশাপ ঘুচিয়ে দেন। ওয়ানডেতে ঘরের মাঠে প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান লিটন। ৭৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান। অন্যদিকে সৈকত ৫১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বড় স্কোর এনে দেন। প্রথম ইনিংসে মোসাদ্দেক, হৃদয় ও লিটনের ফিফটিতে ২৭৪ রান দাঁড় করায় টাইগাররা।

জবাবে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে। ওপেনার কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিস মিলে প্রথম ৪০ রান তুলে ফেলেন মাত্র কয়েক ওভারে। ইংলিস ১২ বলে ঝোড়ো ২১ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে ফিরলে প্রথম ধাক্কা খায় অজিরা। একই ওভারে ম্যাট রেনশকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে শরিফুল দ্রুত দুই উইকেট তুলে নেন।

৭০ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পরও এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান কনোলি। অ্যালেক্স ক্যারি (৮) তাসকিনের শিকার হন। মারনাস লাবুশেন ২৯ ও ক্যামেরন গ্রিন ২৭ রান করে সাজঘরে ফিরলেও কনোলি একাই টেনে নিতে থাকেন দলকে। তিনি দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে অজিদের জয়ের পথ সহজ করে দেন।

শেষ দিকে ওলিভার পিক কনোলির সঙ্গে ভালো জুটি গড়েন। তাসকিনের এক ওভারে ২১ রান এসে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শরিফুল ইসলাম তখনও হাল ছাড়েননি। পরপর দুই বলে পিক ও জাভিয়ের বার্টলেটকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান। শেষ পর্যন্ত ৪৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অসাধারণ বোলিং করেন শরিফুল। যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিং ফিগার।

নাটকীয়তা তখনও বাকি। ১৪৯ রানে অপরাজিত থাকা কনোলিকে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে প্লে-অন করে ফিরিয়ে দেন। এতে ম্যাচ আবার ঝুলে যায়। শেষ ২ ওভারে ৫ রান দরকার ছিল অজিদের। শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের প্রথম বলে ১ রান নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে ইয়র্কার। তারপরই অ্যাডাম জাম্পা একটি চার মেরে ৩ বল বাকি রেখে ১ উইকেট হাতে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের বোলিংয়ে শরিফুল ৬ উইকেট ছাড়াও তাসকিন, মুস্তাফিজ ও মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রান করেও ম্যাচ হারলেও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়ে দারুণ এক অর্জন করে টাইগাররা।

আরও পড়ুন- ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...