
আন্তর্জাতিক ডেস্ক॥ যুদ্ধবিরতির মধ্যে আবারো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে। বুধবার (৩ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ওই দ্বীপে অবস্থিত ইরানের একটি ড্রোন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ও যোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।এর জবাবে ইরান পাল্টা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশ কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। হামলার আশঙ্কায় কুয়েত ও বাহরাইনজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং একটি আঞ্চলিক মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তবে মার্কিন সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোঁড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র কুয়েতে পৌঁছানোর আগেই মাঝপথে ভেঙে পড়ে এবং বাহরাইনের দিকে আসা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও বাহরাইনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করে।
কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এ যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে থাকার মধ্যেই নতুন করে এ হামলার ঘটনা ঘটল।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ আইআরজিসির বরাত দিয়ে এই সংঘাতের একটি ধারাবাহিক বিবরণ প্রকাশ করেছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী- ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে তার ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর জবাবে ইরান একটি মার্কিন-ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজে নৌ-ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালায়।
এরপর মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপে ইরানের সামরিক যোগাযোগ টাওয়ারে আঘাত করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ঝাঁক নিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘিœত করলে আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
আরও পড়ুন- একদল ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ






