চায়ের রাজ্যে প্রতীকের নাট্য ও সংস্কৃতি উৎসব সম্পন্ন

চায়ের রাজ্যে প্রতীকের নাট্য ও সংস্কৃতি উৎসব সম্পন্ন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ হাতের মুঠোয় হাজার বছর আমরা চলেছি সামনে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম নাট্য ও সংস্কৃতি সংগঠন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের প্রতীক থিয়েটারের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, নববর্ষ বরণ ও দুই দিনব্যাপী নাট্য ও সংস্কৃতি উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে চায়ের রাজ্যখ্যাত দেউন্দি চা বাগানে অবস্থিত প্রতীক থিয়েটার নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

শত বছরের ঐতিহ্য চড়ক ঘুল্লিতে হাজারও মানুষ


 নাট্য ও সংস্কৃতি উৎসব


দেউন্দি চা বাগানের মহাব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না, নাট্য ব্যক্তিত্ব রফিকুল্লাহ সেলিম,

খোয়াই থিয়েটারের সভাপতি তোফাজ্জল সোহেল, চুনারুঘাটের ধামালীর পরিচালক অ্যাডভোকেট মোস্তাক বাহার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন কবির, সহকারী অধ্যাপক ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন,

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. আহমদ আল মামুন, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ময়মনসিংহ বিভাগের সমন্বয়কারী রেজাউল করিম লেবু, জামালপুরের শহীদ সমর থিয়েটারের আব্দুল্লাহ মোল্লাহ ও সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ কলেজের উপাধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন রুমি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার সিংহ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতীক থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নাট্যকার ও নির্দেশক প্রয়াত সুনীল বিশ্বাসের স্মরণে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে প্রতীক লিটল থিয়েটারের সদস্যরা আবহমান বাংলার বিভিন্ন গানের সঙ্গে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন। সমাপনী দিনে ধামালীর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের পরিবেশনায় মুল্লুক নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। মধ্যরাতে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। কয়েক হাজার দর্শক উৎসবের নানা আয়োজন উপভোগ করেন।

প্রতীক থিয়েটারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমোদ মালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বুনার্জীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, নাটক কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি গণমানুষের প্রতিবাদের ভাষা।

তিনি বলেন, প্রতীক থিয়েটার ৪০ বছর ধরে চা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মূলধারার মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত করতে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট অঞ্চলের চা জনপদের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ। চা জনগোষ্ঠীর উৎসব, লোককাহিনী, সংগীত, নৃত্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্য শুধু চা বাগানের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই। তা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনুষ্ঠানে অতিথিদেরকে ক্রেস্ট ও উত্তরীয় প্রদান করে সম্মান জানানো হয়।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...