
নিজস্ব প্রতিনিধি॥ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে বস্তিতে বসবাসকারী অসহায় লাকী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ফ্রান্স প্রবাসী ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজসেবক বদরুল আলম তালুকদার। তার পক্ষ থেকে লাকী আক্তারের হাতে উপহারের একটি শাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে।
সামান্য এই উপহার পেলেও এতে খুশিতে ভরে ওঠে অসহায় পরিবারটির মুখ। শনিবার বিকেলে বদরুল আলম তালুকদারের পক্ষ থেকে লাকী আক্তারের হাতে শাড়িটি তুলে দেওয়া হয়। জানা যায়, লাকী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে তিন সন্তান নিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
রেলওয়ে বস্তির ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করলেও সংসারে নেই স্থায়ী কোনো উপার্জনের ব্যবস্থা। প্রতিদিন সন্তানদের খাবার জোগাড় করতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় ঠিকমতো খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় পোশাকও জোটে না তাদের ভাগ্যে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাকী আক্তারের স্বামী পরিবারটির দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করায় সন্তানদের নিয়ে তাকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে অন্যের বাসায় কাজ করলেও তাতে সংসারের চাহিদা পূরণ হয় না। তবুও সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি।
তার এমন অসহায় জীবনসংগ্রামের খবর জানতে পেরে ফ্রান্স প্রবাসী সমাজসেবক বদরুল আলম তালুকদার মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি নিজের পক্ষ থেকে লাকী আক্তারের জন্য একটি নতুন শাড়ি উপহার পাঠান। উপহারটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লাকী আক্তার।
লাকী আক্তার বলেন, “আমার মতো গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে সাহায্য করায় আমি খুবই খুশি। অনেকদিন পর নতুন শাড়ি পেলাম। আমি বদরুল আলম তালুকদার ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সমাজে এখনও অনেক অসহায় মানুষ রয়েছেন যারা নীরবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের পাশে সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। বদরুল আলম তালুকদারের এই মানবিক উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে ফ্রান্স প্রবাসী ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজসেবক বদরুল আলম তালুকদার বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আমি সবসময় চেষ্টা করি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকতে। ভবিষ্যতেও মানবিক কাজ অব্যাহত থাকবে।” স্থানীয়রা বলেন, প্রবাসে থেকেও বদরুল আলম তালুকদার এলাকার অসহায় মানুষের খোঁজখবর রাখেন এবং বিভিন্ন সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।






