শেষ হলো শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমির দুই দিনব্যাপী শিক্ষা মেলা

শেষ হলো শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমির দুই দিনব্যাপী শিক্ষা মেলা

মো. মামুন চৌধুরী॥ ‘পড়ে শিখবো, করে শিখবো, শিখনটাকে টেকসই করবো, সৃজনশীল ও আদর্শ মানুষ হব’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমী অ্যান্ড হাইস্কুলের দুই দিনব্যাপী শিক্ষা মেলা। ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও হাতে-কলমে শেখার অভিজ্ঞতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মেলার দুই দিনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করে। শুধু বই পড়ে মুখস্থ নয়, বরং ‘করে শেখা’র মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে কীভাবে বাস্তব ও টেকসই করা যায়-শিক্ষা মেলায় তারই প্রাণবন্ত প্রতিফলন ঘটে।

১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।

মেলায় বিজ্ঞানবিষয়ক প্রকল্প, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক প্রকল্প, আইসিটি কর্নার, ইসলামিক কর্নার, রোবটিক্সসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রায় ১ হাজার ৫০০টি প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি প্রকল্প সম্পর্কে দর্শনার্থীদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরে। অনেক প্রকল্পে ছিল নতুনত্ব, সৃজনশীলতা ও বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রয়াস।
শিক্ষা মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। নিজেদের হাতে তৈরি প্রকল্প নিয়ে তারা যেমন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, তেমনি দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতারও পরিচয় দেয়।

মেলায় হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এছাড়া শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলা পরিদর্শন করেন। তারা শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্প ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রকল্প উপস্থাপন শুনে তাদের উৎসাহিত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

দুই দিনের এ শিক্ষা মেলায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী কর্মকান্ড দেখতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। অভিভাবকরাও সন্তানদের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ ও উপস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আয়োজকদের মতে, প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের পাঠদানকে আরও আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও কার্যকর করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষা মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত কাজ ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে। দুই দিনের মেলা শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার এ অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে-এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।

আরও পড়ুন- শ্রীমঙ্গল থেকে নিখোঁজ দুই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...