
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব লেঞ্জাপাড়া এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তা অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।
এতে করে পূর্ব লেঞ্জাপাড়া, আলাপুর ও কলিমনগর চরহামুয়াসহ অন্তত তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দীর্ঘদিনেও রাস্তা সংস্কার বা পাকা করার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ বাইপাস সড়কের পূর্ব পাশে ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের আলাপুর গ্রামের গোপাট পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি বহু বছর ধরে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। অথচ এটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাঁদায় পরিণত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অনেকাংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বই-খাতা নিয়ে কাঁদা ও পানির মধ্যে দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। আলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা, জহুর চান মহিলা কলেজ ও শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থীর যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই রাস্তা।
কিন্তু বর্তমান করুণ অবস্থার কারণে তাদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পথচারী আফরোজ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও লেঞ্জাপাড়ায় তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কৃষক আলফু মিয়া বলেন, আমাদের এলাকা কৃষিনির্ভর। কিন্তু রাস্তার কারণে সময়মতো সার, বীজ ও কীটনাশক আনা যায় না। উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে গিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষা, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাহিদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উক্ত রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমাদের জানা আছে।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আরো পড়ুন-






