
মো. মামুন চৌধুরী॥ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে অবস্থিত রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ ভবনের ভেতরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।
বিষয়টি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্যই নয়, বরং পুরো জংশন এলাকায় কর্মরত ও যাতায়াতকারী মানুষের মাঝেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে আধুনিক স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হলেও রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য আলাদা কোনো নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
ফলে বহু বছর আগের পুরনো ভবনেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের। সময়ের সাথে সাথে ভবনটির অবস্থা মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ফাঁড়ির দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির সময় পানি চুঁইয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
এতে করে ভবনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে এই ফাঁড়িতে ইনচার্জসহ মোট ১০ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তারা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থেকেই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা যেমন হুমকির মুখে, তেমনি জরুরি মুহূর্তে কার্যক্রম পরিচালনাতেও বিঘœ ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুল কাদির জানান, “আমরা শুনেছি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে বা শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাইনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতেই আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।” স্থানীয় সচেতন মহল ও যাত্রীরা বলছেন, শায়েস্তাগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন হওয়ায় এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দায়িত্ব পালন শুধু মানবিক দিক থেকেই অগ্রহণযোগ্য নয়, বরং এটি বড় ধরনের দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ বা অন্তত জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যথায় যেকোনো সময় অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় এড়ানো সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ির অবস্থা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা-তা এখন দেখার বিষয়।






