
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় পিকআপ ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জেরিন আক্তার লিজা নিহতের ঘটনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ঘাতক পিকআপ চালককে মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-৯ সিলেট ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার রাত ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
র্যাব জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিপিসি-২ মৌলভীবাজার এবং র্যাব-১১ সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জের যৌথ অভিযানে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার আনারপুরা এলাকা থেকে বাহুবল থানার মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ইরফান মিয়া (২০) গ্রেফতার করা হয়। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দারাগাঁও গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে। গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বাহুবল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে জেরিন আক্তার লিজা (২৬) তার ছোট মেয়ে জান্নাতুল আরফাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে করে দারাগাঁও থেকে মিরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার বড়গাঁও শাহী জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে লিজা ও তার মেয়ে গুরুতর আহত হন এবং ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেরিন আক্তার লিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জান্নাতুল আরফাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহত লিজার স্বামী বাদী হয়ে বাহুবল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাবের যৌথ দল।







One Comment