
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ মট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় যুক্তিনির্ভর চিন্তার গুরুত্ব অপরিসীম। যুক্তি, তত্ত্ব ও তথ্যের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করাই বিতর্কের মূল উদ্দেশ্য। বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী, চিন্তাশীল, সহনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, একজন বিতার্কিক সাধারণত মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং কিংবা বখাটেপনার মতো অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়াতে পারে না। কারণ বিতর্কচর্চার মধ্য দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যুক্তি, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি হয়। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি তাদের মধ্যে যুক্তিবাদী মানস গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত বিএফএফ-সমকাল বিতর্ক উৎসবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সমকালের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি রাসেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মিজবাহ উদ্দিন, শায়েস্তাগঞ্জ জহুরচান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন, হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সহ-সভাপতি তোফাজ্জল সোহেল, মাধবপুর সৈয়দ সইদ উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ধামালী চুনারুঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ বাহার।
এর আগে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এতে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, বাহুবলের শরৎচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমী, বহুলা উচ্চবিদ্যালয়, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, সানশাইন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় যুক্তিতর্ক, উপস্থাপন ও জ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দেয়। প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমী। আর রানার্সআপ হয় সানশাইন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিযোগিতায় সেরা বক্তা নির্বাচিত হন শায়েস্তাগঞ্জ ইসলামী একাডেমীর শিক্ষার্থী বসুন্ধরা দাস বিন্দু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক আরও বলেন, “আগের মতো এখন আর বিতর্ক উৎসব হয় না। অথচ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চার সুযোগ পায়। সমকাল যে বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটে এবং তারা যেকোনো বিষয়কে যুক্তি ও তথ্যের আলোকে বিশ্লেষণ করতে শেখে।”
তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে না। সমাজ, দেশ ও বিশ্ব সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজের চিন্তাকে যুক্তির মাধ্যমে প্রকাশ করার সক্ষমতাও অর্জন করতে হয়। আর এ ক্ষেত্রে বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবাদী চিন্তা ও জ্ঞানচর্চার প্রসারে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।






