
শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ শৈশবের দুরন্ত দিনগুলো কেটেছে যে বিদ্যালয়ের আঙিনায়, জীবনের নানা ব্যস্ততায় হাজার মাইল দূরে থাকলেও সেই স্মৃতি যেন কখনো মুছে যায়নি। সময়ের স্রোতে পেরিয়ে গেছে বহু বছর। বদলে গেছে অনেক কিছু। কিন্তু নিজের শৈশবের সেই বিদ্যালয়ের কথা আজও মনে পড়ে। সেই টানেই ফ্রান্স প্রবাসী সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক বদরুল আলম তালুকদার ফিরে গেলেন নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিরামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
মঙ্গলবার সকালে তিনি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় বিদ্যালয়ের আঙিনায় পা রাখতেই বদরুল আলম তালুকদারের চোখেমুখে ফুটে ওঠে শৈশবের নানা স্মৃতির ছাপ।
বিদ্যালয়ের মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, চারপাশের পরিবেশ-সবকিছুই যেন তাকে ফিরিয়ে নেয় শিশুকালের সেই দিনগুলোতে। যে আঙিনায় একসময় বই-খাতা হাতে ছুটে বেড়াতেন, সহপাঠীদের সঙ্গে কাটাতেন আনন্দময় সময়, শিক্ষকদের কাছ থেকে শিখেছেন জীবনের প্রথম পাঠ-সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি ফিরে পান হারিয়ে যাওয়া শৈশবের অনুভূতি।
বদরুল আলম তালুকদার বলেন, “আমি এই স্কুলের ছাত্র ছিলাম। জীবনের প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছি। প্রবাসে থাকলেও এই স্কুলের কথা প্রায়ই মনে পড়ে। এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই সুযোগ পেয়ে নিজের সেই প্রিয় স্কুলটি দেখতে চলে এসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “স্কুলে এসে মনে হলো, আমি যেন আবার সেই ছোট্ট বালক হয়ে গেছি। এখানকার প্রতিটি জায়গার সঙ্গে আমার কোনো না কোনো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সময় অনেক বদলে গেছে, কিন্তু শৈশবের স্মৃতিগুলো এখনো হৃদয়ে আগের মতোই জীবন্ত।”

বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং নানা বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রবাসে থেকেও বদরুল আলম তালুকদার এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্নভাবে কাজ করে আসছেন। সমাজসেবা ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। নিজের শৈশবের বিদ্যালয়ে ফিরে আসাও তার শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন তারা।
একজন মানুষ যত দূরেই চলে যাক, তার শৈশবের স্মৃতির কাছে ফিরে আসার আকাক্সক্ষা কখনো শেষ হয় না। বিরামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদরুল আলম তালুকদারের এই ফিরে আসা যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই এক আবেগঘন উদাহরণ। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের বেড়ে ওঠার স্থানকে মনে রাখা এবং সেই স্মৃতির টানে ফিরে আসা নতুন প্রজন্মের জন্যও হয়ে উঠতে পারে শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন- ছাওয়াল পীরের মাজার উন্নয়নে ফ্রান্স প্রবাসীর আর্থিক অনুদান






