
মো. মামুন চৌধুরী॥ শতবর্ষের গৌরবময় ঐতিহ্য আর অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থীর পদচারণায় সমৃদ্ধ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলা এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠকে এবার সরকারি করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি বরাদ্দেরও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং অভিভাবক সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কনিক চন্দ্র শর্মার সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক মো. চুনু মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান।
অভিভাবক সমাবেশে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ তালুকদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহিবুর রহমান, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফাহিন হোসেন, মো. শাহজাহান মুরুব্বী, শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈনুল হাসান রতন, অভিভাবক সৈয়দ ফয়সল আহমেদ, বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য গনেশ সূত্রধরসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, ১৯১৮ সালে তৎকালীন জমিদার সতীষ চন্দ্র দেবের দান করা জমিতে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ১০৮ বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি শায়েস্তাগঞ্জসহ বৃহত্তর হবিগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি গৌরবের সঙ্গে শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করে। এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে শত শত শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
তারা বলেন, ২০১৭ সালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখনো সরকারি হয়নি। তাই সময়ের দাবি অনুযায়ী শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে দশম শ্রেণির প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পরে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এ জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের ফুল, সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেন প্রধান অতিথি ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতামূলক বিশেষ আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রত্যাশা করেন, শতবর্ষের ঐতিহ্য ধারণ করে শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় আগামী দিনেও জ্ঞান, শিক্ষা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে যাবে। সরকারি সহযোগিতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে গিয়ে শায়েস্তাগঞ্জের শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।







One Comment