জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুর পাশে ফ্রান্স প্রবাসী বদরুল তালুকদার

জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুর পাশে ফ্রান্স প্রবাসী বদরুল তালুকদার

শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি॥ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ছোট্ট রুহান জানে না তার কী হয়েছে। জানে না কেন বারবার তাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়, কেন করতে হয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। শুধু বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হয়তো বুঝতে পারে, তার জন্য তারা কতটা চিন্তিত। বয়স যখন মাত্র ছয় মাস, তখনই জটিল রোগে আক্রান্ত হয় রুহান ইসলাম। সেই থেকে চিকিৎসার পেছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত তার পরিবার। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়েও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি শিশুটি। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। অর্থের অভাবে বর্তমানে রুহানের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

রুহান ইসলাম হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার নিজগাঁও গ্রামের মো. শামীম মিয়ার শিশু পুত্র। জন্মের পর অন্য শিশুদের মতোই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছিল সে। কিন্তু প্রায় ছয় মাস বয়সে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই বদলে যায় তার পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সন্তানের অসুস্থতার খবর পেয়ে বাবা-মা তাকে সুস্থ করার জন্য শুরু করেন চিকিৎসার সংগ্রাম।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় রুহানকে। চিকিৎসা, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াত-সব মিলিয়ে দিনের পর দিন বেড়েছে ব্যয়ের বোঝা। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাবা-মা নিজেদের সামর্থ্যরে শেষটুকু দিয়েও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ এখন তাদের সামর্থ্যরে বাইরে চলে গেছে।

একদিকে সন্তানের জটিল অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়-দুইয়ের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রুহানের বাবা মো. শামীম মিয়া।
তিনি জানান, সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও বিপুল অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া নিয়েই এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এমন অসহায় পরিস্থিতিতে রুহানের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মানবিক হৃদয়ের একজন মানুষ। শিশুটির অসুস্থতার খবর জানতে পারেন শায়েস্তাগঞ্জের বাসিন্দা ও ফ্রান্স প্রবাসী সমাজসেবক এবং ক্রীড়া সংগঠক বদরুল আলম তালুকদার। বিষয়টি জানার পর তিনি রুহানের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

রুহানের চিকিৎসার জন্য তিনি ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। তার এই মানবিক সহায়তায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে অসহায় পরিবারটিতে। অর্থের অঙ্কটি হয়তো অনেকের কাছে ছোট, কিন্তু বিপদের সময়ে একটি অসহায় পরিবারের জন্য এই সহযোগিতা হতে পারে বড় সাহস ও আশার উৎস।

বদরুল আলম তালুকদারের সহযোগিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রুহানের বাবা মো. শামীম মিয়া। তিনি বলেন, “আমার সন্তান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাকে সুস্থ করার জন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি। এতদিন কোনোভাবে চালিয়ে এলেও এখন অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বদরুল আলম তালুকদার আমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেছেন। তার এই সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সমাজের আরও হৃদয়বান মানুষ যদি আমার সন্তানের পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো তার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব।”
শামীম মিয়া জানান, রুহানের চিকিৎসার জন্য সামনে আরও অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার একার পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষের কাছে তিনি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।

প্রতিটি বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে সন্তান সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে, স্কুলে যাবে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলবে, হাসি-আনন্দে জীবন কাটাবে। রুহানের বাবা-মায়ের স্বপ্নও এর ব্যতিক্রম নয়। তারাও চান, জটিল রোগের কষ্ট থেকে মুক্ত হয়ে ছোট্ট রুহান আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক।

কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। চিকিৎসা যদি অর্থের অভাবে থেমে যায়, তাহলে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত পরিবারটি।
রুহানের পাশে দাঁড়ানো বদরুল আলম তালুকদারের মতো সমাজের আরও সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। সম্মিলিত সহযোগিতায় হয়তো রুহানের পরিবার আবার নতুন করে আশার আলো দেখতে পাবে।

একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে কোটি টাকার প্রয়োজন নাও হতে পারে; প্রয়োজন হতে পারে অনেক মানুষের ছোট ছোট সহযোগিতা। আপনার সামান্য সহায়তাও রুহানের চিকিৎসার পথে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অসুস্থ শিশু রুহান ইসলামের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক হৃদয়বান ব্যক্তিরা তার বাবা মো. শামীম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি সহায়তা করতে পারেন। বিকাশ নম্বর- ০১৭৬০-৩৩৪৭৪৮।

মানুষ মানুষের জন্য-এই বিশ্বাসেই রুহানের পরিবারের আকুতি, অর্থের অভাবে যেন তার চিকিৎসা থেমে না যায়। সবার সম্মিলিত সহায়তায় ফিরে আসুক ছোট্ট রুহানের মুখের হাসি, পূরণ হোক তার সুস্থ জীবনের স্বপ্ন।

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...