গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় কর্মব্যস্ত হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল

গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় কর্মব্যস্ত হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। এরপর থেকেই ফের কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে শিল্পাঞ্চল। এতে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে দল বেঁধে শ্রমিকরা ফিরতে থাকেন কর্মস্থলে। কারখানা চালু করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কর্মকর্তারাও। এদিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, গত রাত (শুক্রবার দিবাগত রাত) থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে আজ (শনিবার) সকাল থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আর যদি কোনো ধরনের কোনো সমস্যা না হয় তাহলে আশা করছি আজ (শনিবার) থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জ জেলায় শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। ২০ দিন ধরে সংকট থাকলেও সরবরাহ ছিল সামান্য। কিন্তু বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পুরোপুরিই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে জেলার ১৭১টি শিল্প কারখানার অধিকাংশগুলোতেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বেকার হয়ে পড়েন প্রায় দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক। কারখানা বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন কোম্পানিগুলোকে শত শত কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়। যার অধিকাংশই রফতানি আয়। একের পর এক বাতিল হয় কোম্পানিগুলোর বৈদেশিক অর্ডার। গ্যাস কর্তৃপক্ষ শিল্প সংশ্লিষ্টদের বলছিলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে। সে অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকও হয়।

এসএম স্পিনিং এর মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, গত রাত (শুক্রবার দিবাগত রাত) আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। আর আজ (শনিবার) সকাল ৬টায় স্বাভাবিক হয়। সকাল থেকেই আমরা কারখানা চালু করতে পেরেছি। জালালাবাদ গ্যাসও আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে গ্যাস সরবরাহ ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, মিল যদি বন্ধ থাকে আমাদের পেরেশানি, দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে এটিই কামনা করি।

স্কয়ার ডেনিমের লি. এর মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন জানান, গত রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ কিছুটা শুরু হয়। কিন্তু আমরা পুরোপুরি পেয়েছি আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ৮টায়। গ্যাস চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেশিন চালু করা যায় না। গ্যাস সরবরাহ স্টেবল হওয়ার পর আজ সকাল থেকে জেনারেটর চালু করেছি। মিল চালু করেছি। সবাইকে প্রচন্ড ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।
কোম্পানির শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমাদের মধ্যে একটা উদ্বেগ ছিল যে, কারখানা যদি বেশিদিন বন্ধ থাকে তাহলে আমাদের চাকরি থাকবে না। আমরা চলবো কী করে। মালিক কতদিন লস করে আমাদের বেতন দিয়ে চালাবেন।

তিনি বলেন, আজ (শনিবার) থেকে আমরা কাজে ফিরতে পেরেছি। খুবই আনন্দ লাগছে। কারখানা আবার চালু হয়েছে। আরেক শ্রমিক মাসুক মিয়া বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় উদ্বেগতো ছিলই। পাশাপাশি সময় কাটতে চায় না। আজ থেকে আমরা কাজে ফিরতে পেরে খুবই খুশি লাগছে। আমরা যারা কাজ করি তাদের বেকার সময় কাটানোতো অনেক কষ্টের।

শ্রমিক রাহেলা আক্তার বলেন, বেশিদিন কারখানা বন্ধ থাকলে এক সময় দেখা যেত আমাদের চাকরি চলে যেত। তাহলে আমরা চলতাম কীভাবে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চলতো কী দিয়ে। মালিক কতদিন নিজে লোকসান করে আমাদের বেতন দিয়ে চালাতেন। মালিকের আয় হলেতো আমাদের বেতন দেবেন।

আরও পড়ুন- চুনারুঘাট থেকে ৫০ কেজি গাঁজাসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...