
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ভোলারজুম গ্রাম থেকে উদ্ধার করা একটি মায়া হরিণকে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের বনে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। সোমবার বিকেলে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও সেবাযতœ শেষে হরিণটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে উপজেলার ভোলারজুম গ্রামের চৌকিদার বাড়ি এলাকার পাশে একটি মায়া হরিণকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সেটিকে নিরাপদে আটক করেন। ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যের সন্ধানে কিংবা পথভুলে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চল থেকে হরিণটি লোকালয়ে চলে আসে।
খবর পেয়ে কালেঙ্গা বন বিট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিনের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে হরিণটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর দুই দিন ধরে হরিণটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সেবাযতœ করা হয়।
কালেঙ্গা বন বিট কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, হরিণটি সুস্থ থাকায় সোমবার বিকেলে রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের নিরাপদ এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্ভবত খাদ্যের সন্ধানে অথবা পথভুলে হরিণটি লোকালয়ে চলে এসেছিল। স্থানীয় মানুষ সচেতনতার পরিচয় দিয়ে প্রাণীটির কোনো ক্ষতি না করে বন বিভাগকে খবর দিয়েছেন। তাদের এই মানবিক ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত না করে বা আটকে রেখে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যের অভাব, আবাসস্থল ধ্বংস এবং মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বিভিন্ন সময় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। এ ধরনের প্রাণী দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগকে খবর দিলে প্রাণীগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
বন বিভাগের মতে, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আরও কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন- খোয়াই নদীতীরে সবুজায়ন কর্মসূচি






