দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় সেই হাটগুলো এখন কাদা, পানি আর দুর্ভোগের স্থলে পরিণত হয়েছে।

হাটের ভেতরে কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা বৃষ্টির পানি, আবার কোথাও পশু রাখার জায়গা পর্যন্ত ডুবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। বিশেষ করে ঢাকার গাবতলী, আফতাবনগর, মেরাদিয়া, শ্যামপুর ও উত্তরার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

পশু পরিবহন, পরিচর্যা এবং বেচাকেনা সবকিছুতেই ধীরগতি নেমে এসেছে। খামারিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা পশু নিয়ে হাটে এলেও এখন বৃষ্টি ও কাদার কারণে ক্রেতা কমে গেছে। ফলে বিক্রি না হওয়া এবং লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায় পানি জমে ছোট ছোট ডোবার মতো হয়ে গেছে। ট্রাক থেকে নামানো গরুগুলোকে কাদার মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

অনেক খামারি নিজেরাই বাঁশ, খড় ও প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী উঁচু জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বৃষ্টি বাড়লে সেটিও টিকছে না। রাজশাহী থেকে গরু নিয়ে আসা খামারি আব্দুল মালেক বলেন, দুই দিন ধরে বৃষ্টির কারণে গরুগুলো ঠিকমতো বসতে পারছে না। খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতারাও কাদার কারণে ঠিকভাবে হাট ঘুরে দেখতে পারছেন না। এতে বেচাকেনা কমে গেছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা আরেক ব্যবসায়ী আ. সালাম বলেন, গরু নিয়ে আসতেই খরচ অনেক। এখন যদি কয়েক দিন হাটে আটকে থাকতে হয়, তাহলে খাবার ও শ্রমিক খরচ আরও বাড়বে।

বৃষ্টি থাকলে ক্রেতারাও কম আসে। সব মিলিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। শুধু খামারিরাই নন, দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। অনেকে পরিবার নিয়ে পশু দেখতে এসে কাদা ও পানির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে হাটে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

গাবতলীতে গরু দেখতে আসা এক ক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, হাটে ঢুকতেই কাদা আর পানি। জুতা নিয়ে হাঁটাই কঠিন। গরু ভালোভাবে দেখাও যাচ্ছে না। কয়েক জায়গায় এত কাদা যে দাঁড়ানোই যাচ্ছে না। আরেক ক্রেতা আ. বারেক বলেন, বৃষ্টির কারণে পশুগুলোও অস্বস্তিতে আছে।

অনেক গরুকে কাঁপতে দেখা যাচ্ছে। এতে পশুর স্বাস্থ্য নিয়েও চিন্তা হচ্ছে। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অস্থায়ী পশুর হাটগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কারণ অধিকাংশ হাটই খোলা মাঠে বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি দ্রুত নামছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। হাট ইজারাদারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। হাটে লাখ লাখ টাকার পশু এসেছে। অথচ বৃষ্টির মধ্যে পশু রাখার ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই।

কোথাও শুকনো জায়গা নেই, ড্রেনেজ নেই। এতে পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। পশু চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ভেজা ও কাদাযুক্ত পরিবেশে থাকলে পশুর বিভিন্ন রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে খুরে ঘা, ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে। এছাড়া ভেজা পরিবেশে খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পশুর হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের চিকিৎসক হুমায়ুন কবির জানান, বৃষ্টি বা ঠান্ডায় গরুর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং গরুর জন্য ঠান্ডা ভালো। এতে গরু শান্ত থাকে, অসুস্থ হওয়ার ঝুকিও কমে যায়।

তবে গরমে অনেক সময় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। ভ্রমণের সময় প্রচন্ড গরম ও ক্লান্তিতে গবাদি পশু অসুস্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে হাটে আনার পর প্রথমে গরুকে ছায়ায় রাখা জরুরি।

এরপর ভালো করে গোসল করানো প্রয়োজন। বৃষ্টি হওয়াতে গরুর এ ঝুঁকিটা কমে গেছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পশুর হাটে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-মাধবপুর থেকে ৬০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...