
মো. মামুন চৌধুরী ॥ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, মনিপুরি থামি কাপড়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করেছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)। এ সময় মালিকবিহীন ৩৫ বোতল ভারতীয় মদসহ মোট প্রায় ৩ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানকৃত মালামাল ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনারুঘাট সীমান্তের দিঘীরপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাল্লা বিওপির টহলদল। সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ২০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযানকালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেন বিজিবি সদস্যরা।
এ সময় অটোরিকশা থেকে চারজন ব্যক্তি নেমে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির টহলদল সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটকরা হলেন-জেলার চুনারুঘাট উপজেলার টেকেরঘাট গ্রামের রশন আলীর ছেলে মো. নাজু মিয়া (২৮) এবং বাল্লা গ্রামের ছাবু মিয়ার ছেলে মো. সজল মিয়া (২২)।

তবে এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা দক্ষিণ টেকেরঘাট গ্রামের মনা মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া (৩২) এবং একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মো. সজিব মিয়া (২২) কৌশলে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২০ পিস ভারতীয় মনিপুরি থামি কাপড়, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পরে আটককৃতদেরকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিনে দুপুরে মাধবপুর সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় তেলিয়াপাড়া বিওপির টহলদল। সীমান্ত পিলার নং-১৯৮১/এম থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লেকেরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৫ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






