শায়েস্তাগঞ্জে পড়ে আছে লাখ টাকা মূল্যের কড়ই গাছ

শায়েস্তাগঞ্জে পড়ে আছে লাখ টাকা মূল্যের কড়ই গাছ

মো. মামুন চৌধুরী ॥ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে ঝড়ে উপড়ে পড়া বিশাল আকৃতির একটি কড়ই গাছ। রেলওয়ে চিকিৎসালয়ের সামনে পড়ে থাকা গাছটির আনুমানিক মূল্য প্রায় লাখ টাকা বলে স্থানীয়দের ধারণা। নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করা হলে এ গাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিনেও গাছটি অপসারণ কিংবা নিলামে বিক্রির কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এতে একদিকে যেমন মূল্যবান কাঠ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবল ঝড়ের সময় শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের রেলওয়ে চিকিৎসালয়ের সামনে থাকা বিশাল আকৃতির কড়ই গাছটি উপড়ে পড়ে যায়। এরপর থেকে গাছটি সেখানেই পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে গাছটির কাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধীরে ধীরে পচন ধরারও আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় পড়ে থাকা মূল্যবান এই গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় প্রতিদিনই এর মূল্য কমছে। দ্রুত নিয়ম অনুযায়ী নিলাম সম্পন্ন করে গাছটি বিক্রি করা হলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হতো, অন্যদিকে নিলামের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রেলওয়ে কর্মচারী জানান, রেলওয়ের জায়গায় পড়ে থাকা গাছটি দীর্ঘদিন ধরেই সবার নজরে রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, সরকারি সম্পদ হিসেবে গাছটির যথাযথ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন ছিল। আর যদি সংরক্ষণের প্রয়োজন না থাকে, তাহলে নিয়ম মেনে দ্রুত নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গাছটি অপসারণ করা উচিত।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে গাছটির কাঠের গুণগত মান কমে গেলে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যবান কাঠ নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গাছটি অপসারণ ও নিলামে বিক্রির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-প্রকৌশলী (পূর্ত) আব্দুর রউফ বলেন, “গাছটির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিলামের কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি সাপেক্ষে নিয়মনীতি মেনে গাছটি সংরক্ষণ অথবা নিলামের ব্যবস্থা করা হবে।”

পরিবেশপ্রেমী সুজন মিয়া বলেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছটি দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং নিলামের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারেও অর্থ জমা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা গাছটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জনসম্মুখে পরিষ্কার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন- ভয়ানক হয়ে ওঠা ডেঙ্গু জ্বরে ছয়জনের মৃত্যু

Tagged:

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...