
সিলেট প্রতিনিধি: তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই যুগে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে বস্তুনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
তিনি বলেছেন, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই দেশ-বিদেশের কোটি মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে অনলাইন সাংবাদিকতায় দায়িত্বশীলতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘অনলাইন সিলেট’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) নগরীর অভ্র প্রকাশনীর ‘অভ্র সেন্টারে’ কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
তিনি বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এবং গণতন্ত্র সুসংহত করতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইন মাধ্যমের বদৌলতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়। তাই এই মাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা থাকা অপরিহার্য। এ কারণে সংবাদকর্মী এবং সম্পাদনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”
ভুয়া সংবাদ ও ফটোকার্ডের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রায়ই ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেকের চরিত্র হননের ঘটনাও ঘটছে। এসব বিভ্রান্তির ভিড়ে ‘অনলাইন সিলেট’ দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক আরও বলেন, “সিলেটে প্রায় শতাধিক নিউজ পোর্টাল থাকলেও অনেকেই দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে না। একটি মোবাইল হাতে পেলেই পোর্টাল চালানো হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, ‘অনলাইন সিলেট’ সরকারি আইন মেনে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তার জানা মতে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই পোর্টালটি সরকারি নিবন্ধন লাভ করবে।
এ সময় সরকারের প্রতি ‘অনলাইন সিলেট’-এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে পোর্টালটির সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, লেখক, সাংবাদিক ও দৈনিক যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অপূর্ব শর্মা। তিনি বলেন, সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হলেও প্রযুক্তির কল্যাণে এ ধরনের আলোচনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। সত্যের পথে সাংবাদিকতা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ‘অনলাইন সিলেট’ সবসময় সত্যের পক্ষে থাকবে এবং নিপীড়িত ও গ্রাম-গঞ্জের প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরবে-এটাই প্রত্যাশা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মদন মোহন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি সিলেট বিভাগের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে ‘অনলাইন সিলেট’-কে আরও বেশি কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বানিয়াচংয়ের ঐতিহাসিক সাগরদিঘিসহ সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র গবেষক, লেখক ও সাহিত্যিক মিহির কান্তি চৌধুরী, ফোকলোর গবেষক আবু সালেহ আহমদ এবং ‘সময় পাঠ’-এর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মনির হেলাল। তারা ‘অনলাইন সিলেট’-এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘অনলাইন সিলেট’-এর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তাকিম আহম্মদ কাওছার। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন পোর্টালটির সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুল হক মামুন।
এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জানান সিলেট কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সমর বিজয় সী-শেখর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমানসহ নগরীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন ঘিরে ‘অনলাইন সিলেট’ পরিবারের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অভ্র সেন্টারে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন- দস্যুতার মামলায় পলাতক আসামি গ্রেফতার







One Comment