খোয়াই নদীতীরে সবুজায়ন কর্মসূচি

খোয়াই নদীতীরে সবুজায়ন কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ পরিবেশ সংগঠক ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায়

বৃক্ষই হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও তার নিয়মিত পরিচর্যার কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে হবিগঞ্জ জেলা শহরের খোয়াই নদীর শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার ও প্রাকৃতজনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “নদী তীরে সবুজায়ন” কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে চারা গাছে বেষ্টনী স্থাপন, পূর্ববর্তী বছরের বনায়ন পরিদর্শন এবং নতুন করে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি দিবস বা মৌসুমি কর্মসূচি হিসেবে দেখলে হবে না। এটিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সারা বছরই বৃক্ষরোপণ করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কাক্সিক্ষত বনায়নের লক্ষ্য অর্জিত হয় না।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে সঠিক স্থানে উপযুক্ত প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে। পাশাপাশি রোপণ করা প্রতিটি গাছের পরিচর্যার দায়িত্বও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আনন্দিত যে পূর্বে লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে মানুষের ছায়া দিচ্ছে, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল তৈরি করেছে। নিয়মিত পরিচর্যার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

প্রাকৃতজনের সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘গাছ মামা’ খ্যাত মো. রায়হান।

এছাড়া বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন স্বপ্ন সোসাইটি হবিগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ তাহমিদ ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. রেজওয়ান আহমেদ, আবু নাসের সামি, মো. কায়সার মিয়া, মো. ওয়াহিদ মিয়া, মো. আলী, শাহীন উল্লাহসহ পরিবেশ সচেতন বিভিন্ন ব্যক্তি।

তোফাজ্জল সোহেল বলেন, খোয়াই নদী ও এর তীরকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখতে হবে। নদীতীরে সবুজ দেখতে চাই, দূষণ নয়। বাইরে থেকে কেউ এসে নদী নোংরা করছে না; স্থানীয়দের অসচেতনতায় নদীতে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। যারা নদী ও পরিবেশ দূষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবুজায়নের বিকল্প নেই। গাছ আমাদের অক্সিজেনের প্রধান উৎস। এছাড়া গাছ মাটির ক্ষয়রোধ, বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই খোয়াই নদী ও নদীতীর রক্ষায় সবাইকে গাছ লাগানো এবং বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, নদীতীরকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন- একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...