নিজস্ব প্রতিনিধি॥ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে ভারতীয় কাপড় মদ গাঁজা বিয়ার ও বাংলাদেশী মশার কয়েল জব্দ হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাত সাড়ে ১০টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর বাল্লা, সিন্দুরখান ও সাতছড়ি বিওপির টহলদল কর্তৃক মাদক ও চোরাচালান বিরোধী পৃথক অভিযানে ওই পরিমাণ মালামাল জব্দ হয়। জব্দকৃতর মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০ টাকা।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির আওতাধীন বাল্লা বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক দল জেলার চুনারুঘাট উপজেলার খোয়াই নদীর পাশে টহল চলাকালীন সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নজরদারি রাখা অবস্থায় একটি বড় পলিথিনের পোটলা আকারে নদীতে ভেসে যাচ্ছিল।
তখন বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হলে, নদীতে থাকা মাঝি এবং রেমা বিওপির টহলরত সদস্যদের সহযোগিতায় নৌকা নিয়ে পোটলাটি উদ্ধার করা সক্ষম হয়। মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ হয় ভারতীয় শাড়ী, থ্রি পিস এবং বিয়ার।
এছাড়াও সাতছড়ি বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার গারোটিলা নামক স্থানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা হয় ১০ কেজি ভারতীয় গাঁজা এবং ৮৫ বোতল ভারতীয় মদ। সেই সঙ্গে সিন্দুরখান বিওপির সাগরের ঘাট নামক স্থান হতে মালিকবিহীন অবস্থায় ৬৬০ প্যাকেট বাংলাদেশী মশার কয়েল জব্দ হয়।
জব্দকৃত ভারতীয় মদ, গাঁজা ও বিয়ার আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে এবং ভারতীয় শাড়ী, থ্রি পিস ও বাংলাদেশী মশার কয়েল সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক পাচাররোধ করে যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করা এবং দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া মাদক ও চোরাচালান ব্যবসায়ী চক্রকে শনাক্ত এবং আটক করতে বিজিবি’র গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকমূক্ত সমাজ গঠনে সকলের সক্রিয় সহযোগিতার আহবান জানিয়েছে বিজিবি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মামুন চৌধুরী, বার্তা সম্পাদক: ইসলাম উদ্দিন