নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ প্রবাসে থাকলেও নিজের শেকড়কে ভুলে যাননি তিনি। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি রয়েছে তার গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। তাই সুদূর ফ্রান্সে অবস্থান করেও নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এবার নিজের পড়াশোনা করা বিরামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনের জন্য টেবিল উপহার দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ফ্রান্স প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক বদরুল আলম তালুকদার।
হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিরামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি নুর আলম তার বন্ধু বদরুল আলম তালুকদারের কাছে একটি টেবিল উপহার দেওয়ার অনুরোধ জানান। বন্ধুর সেই অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য টেবিল উপহার দেন। তার এ
সহযোগিতায় শিক্ষক মিলনায়তনের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি শিক্ষকদের দৈনন্দিন কাজেও সুবিধা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
একটি টেবিল হয়তো অনেকের কাছে সাধারণ উপহার। কিন্তু যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একজন মানুষের শৈশব, শিক্ষাজীবন ও অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে থাকে, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে রয়েছে ভিন্ন রকমের আবেগ ও আত্মতৃপ্তি। বদরুল আলম তালুকদারের এ উদ্যোগও তেমনই এক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রয়োজনের কথা শুনে এগিয়ে আসা তার আন্তরিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি নুর আলম বলেন, “আমার বন্ধু ফ্রান্স প্রবাসী বদরুল আলম তালুকদারের কাছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনের জন্য একটি টেবিল উপহার দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আমার অনুরোধের মূল্যায়ন করেছেন এবং বিদ্যালয়ের জন্য টেবিল উপহার দিয়েছেন। এতে শিক্ষকদের উপকার হয়েছে। তার এ সহযোগিতায় আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রয়োজনে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সুন্দর ও কার্যকর হয়ে উঠবে। বদরুল আলম তালুকদারের এ সহযোগিতা অন্যদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিজের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু করতে পেরে আবেগাপ্লুত বদরুল আলম তালুকদার বলেন, “আমি এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আমার শৈশব কেটেছে। সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনের জন্য একটি টেবিল উপহার দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার কাছে এটি শুধু একটি টেবিল উপহার দেওয়া নয়, বরং নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি সুযোগ।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতেও এ বিদ্যালয়ের জন্য আরও কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিদ্যালয়ের পাশে থাকতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।”
উল্লেখ্য, ফ্রান্স প্রবাসী বদরুল আলম তালুকদার একজন সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রবাসে থেকেও এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করা এবং মানবিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি এলাকাবাসীর কাছে পরিচিতি পেয়েছেন।
বিরামচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনের জন্য টেবিল উপহার দেওয়ার ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে-মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও মানুষের প্রয়োজন উপলব্ধি করার মানসিকতাই পারে ছোট উদ্যোগকে মহৎ কাজে পরিণত করতে।
নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর এমন ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও শৈশবের বিদ্যাপীঠের কথা স্মরণ রেখে পাশে দাঁড়ানো বদরুল আলম তালুকদারের এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের মুখে স্বস্তির হাসি, আর নিজের বিদ্যালয়ের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দ-এই দুইয়ের মেলবন্ধনে টেবিল উপহারের উদ্যোগটি হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে স্কুলে প্রবাসী বদরুল আলম তালুকদারের পক্ষে টেবিলটি প্রদান করেন তার বন্ধু নুর আলম। এ সময় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশ থেকে বৈষম্যের পথ বন্ধ করো-আমির মামুনুল হক
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মামুন চৌধুরী, বার্তা সম্পাদক: ইসলাম উদ্দিন