শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন-আতঙ্কে আহত ১০

শায়েস্তাগঞ্জে জয়ন্তিকা ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন-আতঙ্কে আহত ১০

মোঃ মামুন চৌধুরী: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন জ্বলে উঠলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়ো করে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী সামান্য আহত হন।

ইঞ্জিনে আগুন লাগার কারণে ট্রেনটির যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিকল্প ইঞ্জিন এনে প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে ট্রেনটি পুনরায় সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সময় স্টেশনে আটকে থাকায় তীব্র গরমের মধ্যে নারী, শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৫টার দিকে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করছিল। এ সময় স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন থেকে ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখতে পান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সতর্কতার সঙ্গে ট্রেনটি শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসেন তিনি। এরপরপরই ইঞ্জিনে আগুন জ্বলে ওঠে।
ইঞ্জিনে আগুন দেখতে পেয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত ১০ জন যাত্রী সামান্য আহত হন। তবে আগুন যাত্রীবাহী কোচে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। তাদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনে ইঞ্জিনের ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেনটির স্বাভাবিক যাত্রা ব্যাহত হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ইঞ্জিনে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ইঞ্জিনটি অকেজো হয়ে পড়ে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন সরিয়ে আখাউড়া থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনার ব্যবস্থা করা হয়। বিকল্প ইঞ্জিন যুক্ত করার পর রাত ৯টার দিকে ট্রেনটির সিলেট অভিমুখে যাত্রা পুনরায় শুরু হয়। তবে এ ঘটনায় ওই লাইনে অন্যান্য ট্রেন চলাচলে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

ট্রেনের পরিচালক (গার্ড) জহির উদ্দিন বলেন, আউটার সিগন্যাল এলাকায় থাকতেই চালক ইঞ্জিনে ত্রুটি বুঝতে পেরেছিলেন। স্টেশনে ট্রেনটি থামানোর পর যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ইঞ্জিনটি বগি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে আগুন যাত্রীবাহী কোচে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। এদিকে, ইঞ্জিনে অগ্নিকান্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধি দল কাজ শুরু করেছে।

আরও পড়ুন- শেরপুর সাংবাদিক ফোরাম-ঢাকার কমিটি গঠন

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...