এএফসি কোচের লাইসেন্স পেলেন ফুটবলার শামীমুর রহমান

এএফসি কোচের লাইসেন্স পেলেন ফুটবলার শামীমুর রহমান

মো. মামুন চৌধুরী: এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অধীনে কোচ হিসেবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কৃতি ফুটবলার শামীমুর রহমান। ফুটবলের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, মাঠের অভিজ্ঞতা ও নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তার এই অর্জন স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

রোববার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এএফসির কোচিং লাইসেন্স বিতরণ করা হয়। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত লাইসেন্স কোর্সের দ্বিতীয় সেশনের প্রশিক্ষণ শেষে যারা সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের হাতে এ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। উত্তীর্ণদের মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা থেকে একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে কৃতকার্য হয়েছেন শামীমুর রহমান।

লাইসেন্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) টেকনিক্যাল বিভাগের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাহবুবুর রহমান পলো, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার এবং সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ।

শামীমুর রহমানের এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শায়েস্তাগঞ্জের ফুটবলের অগ্রযাত্রায়ও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল খেলার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন তিনি।

ফুটবলের সঙ্গে শামীমুর রহমানের সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। খেলোয়াড় হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ফুটবল খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতা তার ফুটবলজীবনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং কোচ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পথ সুগম করেছে।

শামীমুর রহমান বলেন, “খেলাধুলার পাশাপাশি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওয়ার্ড মেম্বার হিসেবে দুবার নির্বাচিত হয়ে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। একই সঙ্গে ফুটবলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ফুটবল খেলার সুযোগ হয়েছে আমার। ফুটবলকে ভালোবাসি বলেই এ অঙ্গনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আছি।”

তিনি মনে করেন, ফুটবলের উন্নয়নে দক্ষ কোচের পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে দক্ষ ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলাই তার অন্যতম লক্ষ্য।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় ফুটবলের বিকাশ এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে ২০১২ সালে কলিমনগর ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন শামীমুর রহমান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবল চর্চা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার উদ্যোগে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।
গ্রাম ও স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের চর্চা ধরে রাখা এবং তরুণদের খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যারা ফুটবলকে পেশা কিংবা জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিতে চায়, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বর্তমানে শামীমুর রহমান চুনারুঘাট উপজেলা ফুটবল একাডেমির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি হবিগঞ্জ জেলা দলের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে কাজ করছেন।

এএফসির কোচিং লাইসেন্স অর্জনের মধ্য দিয়ে শামীমুর রহমানের সামনে ফুটবল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের ফুটবলে আগ্রহী করে তুলবে এবং শায়েস্তাগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ি অভিজ্ঞতা, ফুটবল একাডেমি পরিচালনা এবং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চান শামীমুর রহমান।

শায়েস্তাগঞ্জের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বড় পরিসরে খেলার সুযোগ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। তার এএফসি কোচিং লাইসেন্স অর্জন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন- ডেঙ্গু জ্বরের থাবায় সারাদেশে ৯ জনের মৃত্যু

Tagged:

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...