
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নতুন করে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন সমাজসেবক জি কে গাফ্ফার। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে তিনি ৩টি নেবুলাইজার মেশিন প্রদান করেছেন।
রোববার বেলা ১১টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নেবুলাইজার মেশিনগুলো হস্তান্তর করেন তিনি। এর আগে প্রচন্ড গরমে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে ৮টি টেবিল ফ্যানও প্রদান করেছিলেন জি কে গাফ্ফার।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগের চিত্র দেখে নিজ উদ্যোগে ৮টি টেবিল ফ্যান দেন সমাজসেবক জি কে গাফ্ফার। ওই সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আমিনুল হক সরকার রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নেবুলাইজার মেশিনের প্রয়োজনীয়তার কথা তার কাছে তুলে ধরেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবার ৩টি নেবুলাইজার মেশিন নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তিনি।
নেবুলাইজার মেশিন হস্তান্তরের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জি কে গাফ্ফারের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে নেবুলাইজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন মেশিনগুলো রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কার্যকর সহায়তা করবে।
এ সময় সমাজসেবক জি কে গাফ্ফার বলেন, “আমি মানুষের কষ্ট সইতে পারি না। কয়েকদিন আগে হাসপাতালে এসে রোগীদের দুর্ভোগ দেখে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ৮টি টেবিল ফ্যান দিয়েছিলাম। সেদিন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নেবুলাইজার মেশিনের প্রয়োজনের কথা জানান। তাই রোগীদের কথা বিবেচনা করে আজ ৩টি নেবুলাইজার মেশিন দিতে পেরে ভালো লাগছে। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই আমার উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে রোগীদের চলাচল ও সেবা গ্রহণের সুবিধার জন্য অল্প কিছুদিনের মধ্যে ১০টি ট্রলি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী রোগী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসায় হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট থাকলে অনেক সময় রোগীদের সেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হয়। সমাজসেবক জি কে গাফ্ফারের মতো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মানবিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
রোগীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ধারাবাহিকভাবে সহায়তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও মানবিক হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন- শায়েস্তাগঞ্জ থেকে অনলাইন জুয়া চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার







One Comment