ভাতার কার্ডের আশায় ৭৫ বছরের অমলা মুন্ডা

ভাতার কার্ডের আশায় ৭৫ বছরের অমলা মুন্ডা

মো. মামুন চৌধুরী॥ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার লালচান্দ চা বাগানের শাহজিবাজার টিলায় বসবাস করেন অমলা মুন্ডা। বয়স তার ৭৫ বছর। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বার্ধক্যে এসে শারীরিক দুর্বলতা ও নানা রোগে ভুগছেন তিনি। স্বামী অভিমানি মুন্ডাও আর বেঁচে নেই। সন্তানরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মায়ের দেখাশোনা করলেও বয়সের ভারে এখন সরকারি সহায়তার ওপরই অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন অমলা।

তার সবচেয়ে বড় চাওয়া-সরকারিভাবে একটি বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতার কার্ড। দীর্ঘদিন ধরে এই কার্ডের আশায় বিভিন্নজনের কাছে ধরনা দিলেও এখন পর্যন্ত তা পাননি তিনি। এ নিয়ে তার মনে জমেছে গভীর কষ্ট ও হতাশা।

সম্প্রতি লালচান্দ চা বাগানের পাহাড়ি পথ ধরে যাওয়ার সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অমলা মুন্ডার। নিজের জীবনের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। অমলা মুন্ডা জানান, বয়স হয়ে গেছে। শরীরও আগের মতো ভালো নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের ওপর নির্ভর করেই দিন কাটছে। সন্তানরা তাকে দেখাশোনা করলেও সংসারের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সবসময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন।

অমলার আক্ষেপ, সরকারি ভাতা পেলে অন্তত নিজের ওষুধপত্র কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু খরচ নিজেই সামাল দিতে পারতেন। এ জন্য অনেকের কাছে গিয়ে তিনি সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও একটি ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা হয়নি।

লালচান্দ চা বাগানের পাহাড়ি টিলায় বসবাসকারী অমলা মুন্ডার মতো প্রবীণদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর। চা বাগানের দুর্গম পাহাড়ি পথ, সীমিত আয় এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই তাদের জীবন কাটে। বার্ধক্যে এসে নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।

আরও পড়ুন- নির্ধারিত হয়ে গেছে-কার হাতে উঠছে ব্যালন ডি’অর

স্থানীয় বাসিন্দারাও অমলা মুন্ডার জন্য দ্রুত সরকারি ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, অমলা মুন্ডা দীর্ঘদিন ধরে বাগানের টিলায় বসবাস করছেন। বয়সের কারণে তিনি এখন কর্মক্ষম নন। তার মতো একজন অসহায় প্রবীণ নারী যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়রা আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অমলা মুন্ডার মতো একজন বয়স্ক নারী যদি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন, তাহলে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা উচিত।

এ বিষয়ে শানখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, অমলা মুন্ডাকে সরকারি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে। তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন- হবিগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারে অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন অমলা মুন্ডার বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেন সরকারি একটি সহায়তার জন্য তাকে আর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে না হয়-এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।

৭৫ বছরের অমলা মুন্ডার চোখে এখনো আশার আলো-সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার একটি কার্ড হয়তো তার বার্ধক্যের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার আবেদনটি দ্রুত বিবেচনা করার দাবি উঠেছে স্থানীয় মহলে।

আরও পড়ুন- হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির অভিযানে ভারতীয় গরু ও মদ জব্দ

Tagged:

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নামাজের সময়সূচি
বর্তমান সময়
লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
পরবর্তী নামাজ: লোড...
ফজর --:--
যোহর --:--
আসর --:--
মাগরিব --:--
ইশা --:--
সময় গণনা হচ্ছে...