ডেস্ক রিপোর্ট ॥ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অগ্নিকান্ডে নিহত নওগাঁর বাকি পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরছে । প্রায় আড়াই মাস পর স্বজনদের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় পরিবারগুলো। একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, অন্যদিকে বিদেশে পাঠাতে নেওয়া ঋণের বোঝা সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহতদের স্বজনরা।
রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়া পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ওই পাঁচ প্রবাসী হলেন- নওগাঁ পৌর এলাকার পার নওগাঁর শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী।
৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে নওগাঁর ছিলেন ১২ জন। ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় সাতজনের মরদেহ দেশে আনা হয়। তবে, আইনি প্রক্রিয়া ও পরিচয় শনাক্তকরণের জটিলতায় বাকি পাঁচজনের মরদেহ এতদিন সৌদি আরবে হিমঘরে ছিল।
প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন স্বজনরা। অবশেষে মরদেহ দেশে ফেরার খবরে তাদের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। তবে শোকের পাশাপাশি পরিবারগুলোকে এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে ঋণের কঠিন বোঝা।
ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ভিটেমাটি বন্ধক রেখে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নওগাঁর ওই বাসিন্দারা। তাদের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও রয়ে গেছে ঋণের বোঝা।
নিহত সাগর আলীর স্ত্রী পারভীন খাতুন জানান, মাত্র ছয় মাস আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র সম্বল ভিটাও বন্ধক রয়েছে মহাজনের কাছে। এরই মধ্যে ঋণের ১ লাখ টাকাও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। দুই অবুঝ সন্তানকে নিয়ে এখন পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা তিনি।
আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ে মরদেহগুলো দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ মামুন চৌধুরী, বার্তা সম্পাদক: ইসলাম উদ্দিন